লন্ডন, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন এবং সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেন, ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও জাতীয় মর্যাদা অর্জন করে। তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “তাদের ত্যাগ আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রায় চিরন্তন প্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল ভাষার অধিকারের প্রতীক নয়, এটি আমাদের জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় ও গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তি।” ভাষা আন্দোলনের অদম্য চেতনা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের এই আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে যখন UNESCO দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
আলোচনা সভায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর বাণী পাঠ করেন ডেপুটি হাইকমিশনার এম নজরুল ইসলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর বাণী পাঠ করেন হাইকমিশনের মিনিস্টার (কনস্যুলার) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে বলা হয়, ‘আমরা ভাষা শহীদ এবং ’৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪-এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এযাবৎকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।’ তিনি আরও বলেন, একুশের চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর তানভীর আজিম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন হাইকমিশনের কাউন্সেলর (ডিপ্লোমেটিক) মৌমিতা জিনাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) শাহরিয়ার মোশাররফ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অল ইউরোপীয় মুখপাত্র আবু বকর মোল্লা এবং বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।















