দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ উইক ২০২৫’-এর প্রথম পর্ব লন্ডনে সমাপ্ত হয়েছে রবিবার, যেখানে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি এসএমই পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও বিস্তৃত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের আগ্রহে এই প্রথমবারের মতো লন্ডনে হেরিটেজ উইক আয়োজন করা হলো।

বাংলাদেশ হেরিটেজ উইক যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে গত ৩০ জুন আবিদা ইসলাম টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পরিদর্শনে যান এবং মেয়র লুতফুর রহমানের সাথে বৈঠকে ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ উইক’ উদযাপনের প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বাংলাদেশ হেরিটেজ উইক ২০২৫ সফলভাবে আয়োজনের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র মি. লুতফুর রহমান এবং তাঁর টিমের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

লন্ডনে বসবাসরত বহু বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

বাংলাদেশ হেরিটেজ উইকের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এসএমই উদ্যোক্তাদের একত্রিত করা। এসএমই মেলাটি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।

তাঁদের মতে, এই আয়োজন যুক্তরাজ্যের বাজারে তাঁদের পণ্য বিস্তারের জন্য আরও বড় সুযোগ তৈরি করবে।

গত ২১ বছর ধরে এসএমই খাতে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সামিনা আরিন বাংলাদেশ হেরিটেজ উইকে অংশগ্রহণ করে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন।

তিনি বলেন, “এক কথায় বললে—এই মেলাটি অসাধারণ। দর্শনার্থীর উপস্থিতি এত বেশি হবে, আমি কখনো কল্পনাও করিনি। দুই দিনের মধ্যেই আমার সব পণ্য বিক্রি হয়ে গেছে।”

আরেক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা রেহনুমা হোসেন রিনতি বলেন, লন্ডনের এই মেলায় অংশগ্রহণের আগে তিনি কখনোই উপলব্ধি করেননি যে যুক্তরাজ্যের বাজারে তাঁদের জন্য এত বড় সুযোগ রয়েছে।

মেলায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা পাট ও জামদানির তৈরি বিভিন্ন পণ্য ও হস্ততাঁতের নানা পণ্য প্রদর্শন করেন।

উদ্যোক্তা নারগিস সুলতানা তাঁর স্টলে পাটের হস্ততাঁতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন ক্রিসমাস অলঙ্কার ও উপহারসামগ্রী প্রদর্শন করেন।

তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

মেলার মাধ্যমে এই সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য তিনি লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও এসএমই ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

এসএমই মেলার পাশাপাশি বাংলাদেশ হেরিটেজ উইকে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম প্যানেল আলোচনার শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশের এসএমই রপ্তানি খাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন: অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি”, যা সঞ্চালনা করেন হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিবিসিসিআই ইউকের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রফিক হায়দার, ফেস-মার্কেটের সিইও ড. জোয়ে ম্যান্ডিচ, কোয়ে এশিয়া লিমিটেড (যুক্তরাজ্য)-এর পরিচালক ফিলিপ চৌধুরী এবং বাংলাদেশের এসএমই ফাউন্ডেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদুর রহমান।

দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনার শিরোনাম ছিল “সীমান্ত পেরিয়ে—সংস্কৃতি, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি”।

এই আলোচনা সঞ্চালনা করেন লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব ওয়ারিশুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি লেখক নাদিয়া কবির বার্ব, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি লেখক ও ফুড রাইটার দিনা বেগম এবং সিলেটি নাগরি লিপি নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত গবেষক জেমস লয়েড-উইলিয়ামস।

বাংলাদেশ হেরিটেজ উইকের অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল শিশুদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা, রিকশা চিত্রাঙ্কন ও সিলেটি নাগরি লিপি বিষয়ক কর্মশালা।

এছাড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও ভ্রমণ লেখক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আলোকচিত্র প্রদর্শনী “বাংলাদেশ ইন লেন্স” প্রদর্শন করা হয়।

এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ হেরিটেজ উইক ২০২৫-এর দ্বিতীয় পর্ব আগামী ২০–২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পূর্ব লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।